অহিংসার শক্তি

Image result for mahatma gandhi non violence

 

 

মূল্যবোধ : অহিংসা
সহ মূল্যবোধ : নীরবতা
ডাক্তার অরুণ গান্ধী , মহাত্মা গান্ধীর নাতি এবং এম .কে .গান্ধী অহিংসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা , ৯ই জুন পুয়ের্তো রিকো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেবার সময় নিচে দেওয়া গল্পটা পেশ করেন . শিশুকে বড় করবার ক্ষেত্রে অহিংসা  কিভাবে  প্রয়োগ করা যায়  এটা তার উপমা :

”  আমার  বয়েস তখন ১৬ বছর এবং আমি বাবা-মায়ের সাথে দাদুর প্রতিষ্ঠানে থাকতাম যেটা সাউথ আফ্রিকার , ডারবান থেকে ১৮ মাইল দূরে একটা চিনির চাষের বাগানের মধ্যে আমার দাদু  প্রতিষ্ঠিত  করেছিলেন . আমরা গ্রাম্য পরিবেশে বাস করতাম এবং কোন প্রতিবেশী ছিল না , তাই আমার দুই বোন এবং আমি শহরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে দেখা করা অথবা সিনেমা দেখার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম . একদিন আমার বাবা ওনাকে গাড়ি চালিয়ে শহরে পৌঁছে দিতে বললেন কারণ ওনার একটা সারা দিনের সম্মেলন আছে এবং এই সুযোগ পেয়ে আমিও  খুশি হলাম  . যেহেতু , আমি শহরে যাচ্ছিলাম তাই মা আমাকে একটা বাজারের তালিকা ধরিয়ে দিলেন এবং যেহেতু আমি সারাদিন শহরে থাকবো তাই বাবা আমাকে কয়েকটা অসমাপ্ত কাজের ভার দিলেন …যেমন গাড়ি মেরামত করা .

সেদিন সকালে আমি যখন বাবাকে নামিয়ে দিলাম , উনি বললেন , ‘ আমি তোমায় এই জায়গাতে বিকেল ৫ টায় দেখা করবো এবং আমরা একসাথে বাড়ি ফিরবো .’

আমার কাজগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করে , আমি কাছেই একটা সিনেমা হলে চলে যাই . আমি জন ওয়েনের  সিনেমা দেখতে এতো মগ্ন হয়ে যাই যে আমার সময়ের খেয়াল ছিল না . যখন আমার খেয়াল হলো তখন ৫:৩০ বাজে ; যতক্ষনে আমি গ্যারাজে গিয়ে গাড়িটা পেলাম এবং বাবা যেখানে অপেক্ষা করছিলেন সেখানে পৌঁছালাম , সময় ৬ টা হয়ে গেছে . বাবা উদ্বেগের সাথে জিজ্ঞেস করলেন ,  ‘ এতো দেরি হলো কেন ?  ‘ .  আমি যে জন ওয়েনের সিনেমা দেখছিলাম সেটা বলতে আমি খুব লজ্জিত বোধ করলাম . তাই আমি বললাম , ‘ গাড়িটা তখনও প্রস্তুত হয়নি , তাই আমায় অপেক্ষা করতে হলো , ‘ .  এটা বুঝতে পারিনি  যে উনি তাঁর আগেই গ্যারেজে ফোন করে জেনে নিয়েছেন .

যখন আমার মিথ্যাটা ধরা পরে যায় তখন উনি বললেন : ‘ আমি তোমাকে যেভাবে পালন করেছি তাতে হয়ত কোন ভুল হয়েছে যার ফলে আমাকে সত্যিটা প্রকাশ করবার আত্মাবিশ্বাস তোমার মধ্যে ছিল না . এটা বোঝার জন্যে যে কোথায় আমার ভুল হয়েছে , আমি ১৮ মাইল পায়ে হেঁটে যাবো এবং এটার বিষয়ে ভাববো . ‘  তাই , পরণে স্যুট , পায়ে জুতো পড়ে , উনি অন্ধকারে , বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাঁচা রাস্তার ওপর দিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলেন . আমি ওনাকে ছাড়তে পারিনি , তাই সাড়ে পাঁচ ঘন্টা ধরে আমি ওনার পেছনে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম এবং দেখছিলাম যে আমার একটা অথর্হীন মিথ্যা বলার জন্য উনি কি ধরণের অন্তর্বেদনা ভোগ করছিলেন . সেই মুহূর্তে আমি মনস্থির করলাম যে আমি আর কোনদিন মিথ্যা কথা বলবো না .

আমি অনেকসময় এই ঘটনাটার কথা চিন্তা করি এবং ভাবি , যেভাবে বাবা-মায়েরা শিশুদেরকে শাস্তি দেন উনি যদি আমাকে সেই ভাবেই শাস্তি দিতেন , তাহলে কি আমি এই পাঠ শিখতে পারতাম ? আমার মনে হয় না . আমি হয়ত শাস্তিটা ভোগ করতাম এবং সেই একই কাজ করে চলতাম . কিন্তু এই একটা অহিংসার কর্ম এতো ক্ষমতাশালী যে মনে হয় যে ঘটনাটা যেন গতকাল ঘটেছে . এটাই হচ্ছে অহিংসার শক্তি .

 

শিক্ষা :
অহিংসায় অনেক শক্তি আছে . মহাত্মা গান্ধী হলো সর্বোত্তম উপমা যার দ্বারা বোঝা যায় যে অহিংসার মাধ্যমেও বিজয় লাভ করা যায় . পৃথিবীতে বেশির ভাগ সমস্যার সমাধান হলো শান্তি এবং ভালবাসা . অনেক ক্ষেত্রে , নীরবতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ শেখাতে পারে যেটা অন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের দ্বারা সম্ভব নয় . মূল্যবোধ শেখাবার জন্য অথবা শিশুর ভুল শোধরাবার জন্য কঠিন রাস্তা অবলম্বন করবার দরকার নেয় . এটা অহিংসার দ্বারা করা সম্ভব . এটা অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে যে বিতর্ক এবং তিক্ততা বেড়ে ওঠে চেঁচামেচি এবং রাগ থেকে . যে মূল্যবোধতা শেখানো হচ্ছে সেটা অহিংসার দ্বারা বোঝালে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় কারণ অহিংসা  শক্তি  অনেক  বেশি .

Translator ( অনুবাদক ) :   Sinchita .
Advertisements

অশ্বতর এবং কুয়ো : আচরণ

mule and well

 

মূল্যবোধ : আশাবাদ , সঠিক আচরণ

সহ মূল্যবোধ : নিশ্চিত আচরণ

এই উপকথাটা বলা হয়েছে একজন কৃষকের বিষয়ে যার একটা অশ্বতর ছিল . এই অশ্বতরটা কৃষকের কুয়োতে পড়ে যায় . কৃষক শুনতে পায় যে  সে  ডাকছে অথবা সেইসব করছে  যেগুলো অশ্বতর কুয়োতে পড়ে গেলে করে .পরিস্থিতির মূল্যনির্ণয় করে কৃষক অশ্বতরটার প্রতি সহানুভূতি দেখাল কিন্তু স্থির করল যে অশ্বতর অথবা কুয়োটা কোনোটাই এতটা মূল্যবান নয় যে সেটাকে বাঁচাবার জন্য কোনো কষ্ট করা প্রয়োজন . তার বদলে , সে তার সব প্রতিবেশীদের জড়ো করল এবং ঘটনার বিবৃতি দিল এবং তাদের সাহায্য চাইল যাতে সব নোংরা জামায়েত করে অশ্বতর কে কুয়োতে সমাহিত করা যায় এবং তার এই দুর্দশার অবসান ঘটানো যায় .

প্রথমে এই বুড়ো অশ্বতর আতঙ্কিত বোধ করল . কিন্তু যেই কৃষক এবং তার প্রতিবেশীরা মাটি খুঁড়ে নোংরাগুলো তার গায়ে ফেলতে শুরু করল , তার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো . আচমকা তার খেয়াল হলো যে প্রতিবার নোংরার বোঝা তার গায়ে ফেলা হবে , সে সেটাকে ঝেড়ে ফেলবে এবং এক ধাপ উঠে যাবে .যখন নোংরা বোঝার ওপর বোঝা তার গায়ে ফেলা হলো , সে এটাই করল . ” ঝেড়ে ফেলো  এবং এক ধাপ ওঠো …ঝেড়ে ফেলো  এবং এক ধাপ ওঠো …ঝেড়ে ফেলো  এবং এক ধাপ ওঠো !!! ”  তার মন্ত্র হয়ে গেল এবং  নিজেকে অনুপ্রাণিত করার জন্য সে এটার পুনরাবৃত্তি করে চলল .

এই আঘাতটা যতই কষ্টকর হোক না কেন অথবা এই পরিস্থিতিটা যতই পীড়াদায়ক হোক না কেন এই বুড়ো অশ্বতর  “আতঙ্ক” -এর   সাথে লড়াই করল এবং সেটাকে কাটিয়ে উঠো এগোতে শুরু করল . দেরি হবার আগেই এই বুড়ো অশ্বতর , ক্ষত এবং ক্লান্ত , জয়সূচকভাবে কুয়োর দেওয়ালের ওপরে উঠে এলো !

যেটা মনে হচ্ছিলো যে তাকে সমাহিত করবে , আসলে সেটা তার জন্য আশীর্বাদ রূপে কাজ করল — তার কারণ ,  সে   কোন ভঙ্গির  সাথে  তার এই দুর্দশার পরিচালনা করল .

শিক্ষা :

যদি আমরা কোন সমস্যার সম্মুখীন হই , সেগুলো সুনিশ্চিতরূপে জবাব দিতে হবে এবং আতঙ্ক , তিক্ততা অথবা আত্মাকরুণা প্রত্যাখ্যান করতে হবে , যে প্রতিকূল অবস্থা আমাদেরকে সমাহিত করতে আসে সেটার মধ্যে অনেক শক্তি থাকে আমাদেরকে সাহায্য এবং আশীর্বাদ করবার . কৃতজ্ঞ বোধ করা দরকার যখন প্রতিকূল অবস্থা দেখা দেয় ! এইরকম হলে , আপনারা এটা  ব্যবহার করতে পারেন আপনার সুবিধা মতো  কাজ করার জন্য অথবা এটা থেকে কোন পাঠ  শেখার জন্য  .

Translator ( অনুবাদক ) :   Sinchita .

দোকানদার এবং ছেলেটা

 

Image result for indian temple images

মূল্যবোধ  — ভালবাসা
সহমূল্যবোধ — বিশ্বাস

একবার একটা গরিব ছোট ছেলে  খাবারের কোন দানা না পেয়ে তার ক্ষিদে মেটাবার জন্য সামনের একটা ফলের দোকান থেকে একটা কলা চুরি করে নেয় .
ভগবানের ভক্ত হওয়াতে সে কলার অর্ধেক অংশটা “হুন্ডি “-তে ( প্রণামীর বাক্সে ) ফেলে দেয় এবং বাকি অংশটা খেয়ে নেয় . দোকানদার ছেলেটাকে ধরেন  এবং চুরি করার জন্য দোষারোপ  করলেন  .ছেলেটা তার দোষ স্বীকার করে . দোকানদারের এই নিষ্পাপ ছেলেটাকে শাস্তি দিতে হৃদয়ে বাঁধলো কিন্তু তাকে এই ভুল কাজের জন্য শিক্ষা দেবার জন্য , তিনি ছেলেটাকে আদেশ করলেন মন্দিরের চারপাশ কয়েকবার পরিক্রমা করতে . দোকানদার চমকে গেলেন যখন তিনি  দেখলেন  যে ভগবান ছোট ছেলেটাকে অনুসরণ করে এই পরিক্রমা করছেন .সেইদিন রাতে দোকানদারের স্বপ্নে ভগবান দেখা দিলেন এবং ব্যাখ্যা করলেন : ” যেহেতু চুরি করা কলার অংশের ভাগ আমিও নিয়েছিলাম , তাই এই শাস্তির ভাগ নিতে আমিও বাধ্য . তাই আমি মন্দিরের চারপাশে ছেলেটাকে অনুসরণ করছিলাম .”

শিক্ষা :
ভগবান নিষ্পাপ মানুষদের সরলতা এবং ভালবাসা দেখেন .

Translator ( অনুবাদক ) :   Sinchita .

বিশ্বাসের অলৌকিক ঘটনা

 

 

Image result for girl in an alley

 

মূল্যবোধ : সত্য

সহমূল্যবোধ : বিশ্বাস

 

একটা মেয়ে একবার তার বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিল এবং যতটা সময় থাকার কথা তার থেকে বেশি সময় লেগেছিল  বলে  তাকে একা বাড়ি ফিরতে হয় . রাত হতে শুরু করেছে কিন্তু সে ভয় পাইনি কারণ সেটা ছিল ছোট সম্প্রদায় এবং কয়েকটা ব্লক পরেই তার বাড়ি ছিল .

সে যখন বাইকের রাস্তা ধরে হাঁটছিল তখন ডাইনা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করল তাকে সব অনিষ্ট এবং বিপদ থেকে রক্ষা করতে .

যখন সে অন্ধকার এবং ফাঁকা গলিটার কাছে পৌঁছালো , যেটা তার বাড়িতে যাবার শর্টকাট , সে সেই রাস্তা দিয়ে যাবে বলে ঠিক করল .
তবে , গলিতে অর্ধেক পথ যাবার পরে সে একটা লোককে দেখল শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে , মনে হলো যেন সে ডাইনার জন্যেই অপেক্ষা করছে .

তার একটু অসুস্থি হলো এবং সে ভগবানের কাছে তার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করতে লাগল .

সঙ্গে সঙ্গে সে একটা শান্তি অনুভব করল এবং নিরাপত্তা যেন তার চারপাশ ঘিরে আছে , মনে হলো কেউ যেন তার সাথে হাঁটছে .

গলির শেষ প্রান্তে সে যখন পৌঁছালো , সে লোকটার সামনে দিয়ে চলে গেল এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরে  গেল .
পরের দিন , সে খবরের কাগজে পড়ল যে গলি দিয়ে সে গতকাল হেঁটে এসেছে সেখানে তার যাওয়ার কুঁড়ি মিনিট বাদেই একটা অল্পবয়স্ক মেয়ের শ্লীলতাহানি হয়েছে .
এই দুর্ঘটনার সম্বন্ধে পড়ে এবং এই ভেবে যে এই ঘটনা তার সাথেও হতে পারত , সে কাঁদতে শুরু করল  .

তার নিরাপত্তার জন্য ভগবানকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং এই অল্পবয়স্ক মেয়েটার সাহায্য করার কথা ভেবে সে পুলিশ স্টেশনে যাবে বলে মনস্থির করল .
তার মনে হলো সে হয়তো লোকটাকে চিনতে পারবে তাই সে তাদের তার গল্পটাকে বলল .

পুলিশ তাকে জিজ্ঞেস করল যে লাইনে দাঁড়ানো অনেকের মধ্যে সে লোকটাকে শনাক্ত করতে রাজি কিনা .
সে রাজি হলো এবং আগের দিন রাতে গলিতে দাঁড়িয়ে থাকা ওই লোকটাকে সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করে দিল .
লোকটাকে যখন বলা হলো যে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে , তখন সে ভেগে পড়ল এবং সব কিছু স্বীকার করল  .

অফিসার ডাইনাকে তার সাহসীকতার জন্য ধন্যবাদ জানাল এবং তারা জিজ্ঞেস করলেন যে তার জন্য কিছু করতে পারেন কিনা .

সে তাদেরকে বললো যে লোকটাকে একটা প্রশ্ন করতে .
তার জানতে কৌতূহল হলো যে কি কারণে লোকটা তাকে আক্রমণ করেনি .
যখন পুলিশ লোকটাকে  জিজ্ঞেস করল , সে উত্তর দিল , ” কারণ সে এক ছিল না . তার সাথে দুপাশে দুটো লম্বা লোক হেঁটে যাচ্ছিল .”

শিক্ষা :
বিশ্বাস পর্বতকেও সরাতে পারে . যদি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে ভগবান সবসময় আমাদের সাথে আছেন , তাহলে তিনি অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন . তিনি কোনসময় আমাদের একা  ছেড়ে দেবেন না . তিনি সব সময় আমাদের মধ্যেই আছেন এবং আমাদের মনের শক্তি দেন . জীবনে যখনি সমস্যার মুখোমুখি হব তখনি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা উচিত আমাদেরকে এই মনের শক্তি দেবার জন্য . এই দৃঢ় আস্থা এবং বিশ্বাস আমাদের অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে .

 

Translator ( অনুবাদক ) :  Sis Sinchita .

ভগবানের নম্র ভক্ত

 

 

Image result for reading books

 

মূল্যবোধ  : সঠিক আচরণ
সহ মূল্যবোধ  : নম্রতা

গুরুভায়ুরাপ্পান — শ্রী কৃষ্ণের   ভক্ত ছিলেন  মেলপাথুর নারায়ণ ভাট্টাথিরী .  তিনি 1034 পদ্য –নারায়াণীয়াম , ভাগবত পুরাণের সংক্ষিপ্তসার রচনা করেছিলেন 1586  AD . অচ্যুত পিশারদি , যিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর শিষ্য ছিলেন মেলপাথুর  ভাট্টাথিরী . গুরুর শিষ্য হিসেবে মেলপাথুর  ভাট্টাথিরী  রোগটাকে নিজের শরীরে গ্রহণ করে নেয় গুরুদক্ষিণা রূপে . রোগটা দুরারোগ্য ছিল এবং তাকে এজুঠাচান নির্দেশ দেন গুরুভায়ুরাপ্পানের শিষ্য হয়ে যেতে . সংস্কৃতের পণ্ডিত হওয়ার কারণে , মেলপাথুর  ভাট্টাথিরী  প্রতিদিন ভগবানের জন্য একটা পদ্য রচনা করতেন এবং শেষ পদ্যটা রচনার পরে তার রোগ ও সেরে যায় .

ভগবান গুরুভায়ুরাপ্পানের  নম্র শিষ্য ছিলেন  পুণ্থানাম নাম্বোদিরি . ভগবানের প্রশংসায় তিনি একটা মালায়ালম গান ” জ্ঞানাপ্পানা ” লিখেছিলেন . তিনি   ভাট্টাথিরীর মতো বিদ্ধান্ ছিলেন না কিন্তু তাঁর গানগুলো সরলতা এবং ভক্তিমূলক  উৎসাহের  জন্য পরিচিত ছিল .  তিনি ভাট্টাথিরীকে অনুরোধ করেছিলেন এটা পুনঃপরীক্ষা করতে কিন্তু  ভাট্টাথিরীর মধ্যে নম্রতার অভাব ছিল এবং  পুণ্থানামের  সংস্কৃতের জ্ঞানকে সে নিচু ভাবে দেখত .  পুণ্থানাম  বাড়ি চলে গেল এবং ভগবানের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ল .

সেই রাতে   ভাট্টাথিরীর   যখন নারায়ানীয়াম পাঠের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন একজন বালক তাঁর বাড়িতে এলো . বালকটাকে পাশে বসিয়ে সে পাঠ করতে শুরু করলেন . প্রথম স্তবকেই বালকটা একটা ভুল ধরিয়ে দিলো . কবি ভুল স্বীকার করলেন এবং পরের স্তবকটা পড়তে শুরু করলেন এবং সেখানে বালকটা দুটো ভুল ধরিয়ে দিলো . তৃতীয় স্তবকে , সে তিনটে ভুল ধরালো এবং এটা চলতে থাকলো . দশম স্তবকের পরে , ভাট্টাথিরীর  বুঝলেন যে বালকটা আসলে ভগবান নিজেই , এবং বুঝলেন যে তাঁর বিভক্তি (সংস্কৃত ব্যাকরণ ) এবং শিক্ষার উচ্চতর জ্ঞানের তুলনায়  পুণ্থানামের   ভক্তি ভগবানের কাছে অনেক মধুর . তিনি তাড়াতাড়ি  পুণ্থানামের  কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলেন .  তিনি  যখন  ” জ্ঞানাপ্পানা”  পড়লেন , তখন দেখলেন যে সেটা একেবারে  নিখুঁত  .

শিক্ষা :

ভালবাসা এবং নম্রতা  বিহীন জ্ঞান সঞ্চয়ের থেকে বিশ্বাস এবং ভক্তি ভগবানের কাছে  অধিক   গুরুত্বপূর্ণ .

চরিত্র গঠনের নিদর্শক ছাপ হলো নম্রতা .

Translator ( অনুবাদক ) :   Sinchita .

অহংকার কাকে বলে

Image result for buddhism

 

মূল্যবোধ : অহিংসা

সহমূল্যবোধ : অন্তরের শান্তি

ট্যাং সাম্রাজ্যে শাসনকার্য এবং যুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ পারদর্শী এক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন.দেশের মানুষের কাছে তিনি একজন জননায়ক হিসেবে পরিগণিত হতেন.প্রভূত নাম যশ এবং সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ.মাঝে মধ্যেই তিনি তার এক প্রিয় ধর্মগুরুর কাছে যেতেন.একজন শ্রদ্ধাবান ছাত্রের মতো মন্ত্রী মহাশয় ওই শ্রদ্ধেয় গুরুর কাছে আধ্যাত্মিক  জ্ঞান আহরণ করতেন.গুরু শিষ্যের সম্পর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কোনো প্রভাবই ছিল না.

একদিন মন্ত্রী মহাশয় তার  গুরুকে প্রশ্ন করলেন-“বৌদ্ধ ধর্মমত অনুসারে আত্মাভিমান কাকে বলে?”প্রশ্ন শুনে গুরু অত্যন্ত  ক্ষুদ্ধ হলেন. মন্ত্রীকে অপমান   করবার জন্য বেশ একটা তাচ্ছিল্যের সুরে উত্তর দিলেন-“এ কি রকম নির্বোধের মতো প্রশ্ন?”গুরুর এই ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রী তো আশ্চর্য হয়ে গেলেন.তার আচরণে ক্রোধ এবং বিষয় প্রকাশ পেল.হতবুদ্ধি এবং নির্বাক মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে গুরু বললেন-“মহামান্য মন্ত্রীবর,একেই বলে আত্মাভিমান অথবা অহংকার.”

শিক্ষা :

অভিজ্ঞতালাভের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করা শিক্ষাঅর্জনের প্রকৃষ্ট উপায়.শুধুমাত্র ব্যাখ্যা করে দিলেই কোনো কিছু শেখানো যায় না.বৌদ্ধ ভিক্ষু বা ধর্মগুরুরা ধর্মশিক্ষা দেওয়ার জন্য এই পন্থাই অবলম্বন করতেন.

http://saibalsankaarbangla.wordpress.com

রাম নাম স্তব করা

Image result for ram naam

মূল্যবোধ : সত্য
সহমূল্যবোধ : জ্ঞান

একজন গুরু বিষ্ণু সহস্রনাম শ্লোকটা তাঁর তরুণ শিষ্যদের একটা দলকে শেখাচ্ছিলেন . গুরু শ্লোকটাকে স্তব করলেন :

শ্রী রামা রামা রামেথী রামে রামে মনো রামে |
সহস্র নামা তথ্যুলাম রামা নামা ভারা নানে ||

তারপর উনি শিষ্যদেরকে  বললেন , ” তুমি যদি রাম নাম তিন বার স্তব করো , তাহলে সেটা সমস্ত বিষ্ণু সহস্রনাম অথবা প্রভুর নাম হাজার বার স্তব করবার সমান .”

একজন তরুণ গুরুর সাথে একমত হতে পারল না . সে গুরুকে জিজ্ঞেস করলো , ” হে গুরু ! ৩ বার =   ১০০০ বার কি করে হয় ? এর পেছনে কি যুক্তি ,সেটা  আমি ঠিক বুঝলাম না . ৩ বার স্তব  =   ১০০০ বার কি করে ? ”

জ্ঞানী এবং দক্ষ গুরু , যিনি শ্রী রামের মহান ভক্ত ,সহজে ব্যাখ্যা করলেন : ” ভগবান শিব বলেছেন যে শ্রী রামের নাম সব নামের থেকে সব চেয়ে মধুর এবং এই নাম স্তব করা সমস্ত বিষ্ণু সহস্রনাম অথবা বিষ্ণুর হাজার নাম কে স্তব করার সমতুল্য .”

এখানে একটা মজাদার সংখ্যাসূচক গণনার দ্বারা প্রমাণ করা যায় যে রাম নাম ৩ বারের স্তব = ১০০০ বার স্তব করা অথবা সমস্ত বিষ্ণু সহস্রনাম স্তব করা .

রাম নামটার  বিশ্লেষণ করা যাক  . এটা তে দুটো সংস্কৃত অক্ষর আছে রা এবং মা .

রা ( সংস্কৃতে দ্বিতীয় ব্যঞ্জনবর্ণ : য , র , ল , ভ , স , এবং শ )
মা ( পঞ্চম ব্যঞ্জনবর্ণ : প , ফ , ব , ভ , ম ).

রা এবং মার মূল্য পরিবর্তন করা হলো ২  এবং ৫  -এ  যাতে রামা তৈরী হয় : ২ x  ৫ = ১০ . তাই রাম রাম রাম তিন বার বলা সমান হলো ২ x  ৫ x ২ x  ৫ x ২ x  ৫ = ১০ x ১০ x ১০ = ১০০০ .  তিন বার রাম নাম স্তব করা হাজার বার স্তব করার সমান .

তরুণ ছেলেটা এই উত্তরে খুশি হলো এবং সম্পূর্ণ একাগ্রতা এবং ভক্তির সাথে বিষ্ণু সহস্রনাম শিখতে শুরু করল .

আমাদের এই  কৌতূহলী ছেলেটার ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন এবং অনেক বন্ধুর মধ্যে এই তথ্যের বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন এবং কম করে ১০০০   বার সকালে এবং সন্ধ্যে রাম নাম স্তব করা প্রয়োজন .

শিক্ষা : নির্দিষ্ট ধর্মানুষ্ঠান , প্রার্থনা পালন করার অর্থ অথবা উদ্দেশ্য যদি  অন্যদের কে বুঝিয়ে দেওয়া হয় , বিশেষত বাচ্চাদেরকে , তাহলে তারা সেগুলোর মর্ম  উপলব্ধি করতে পারবে এবং গুরুত্ব বুঝতে পারবে এবং তার চর্চা করবে ; তা নাহলে তাদের জোর করে জিনিসটাকে  শুধু করানো হয় . জ্ঞান এবং অভিজ্ঞাতার দ্বারা আত্মজ্ঞান অর্জন করা সম্ভব .

 

http://saibalsankaarbangla.wordpress.com

Translator ( অনুবাদক ) :   Sinchita .