বিশ্বাসের অলৌকিক ঘটনা

 

 

Image result for girl in an alley

 

মূল্যবোধ : সত্য

সহমূল্যবোধ : বিশ্বাস

 

একটা মেয়ে একবার তার বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিল এবং যতটা সময় থাকার কথা তার থেকে বেশি সময় লেগেছিল  বলে  তাকে একা বাড়ি ফিরতে হয় . রাত হতে শুরু করেছে কিন্তু সে ভয় পাইনি কারণ সেটা ছিল ছোট সম্প্রদায় এবং কয়েকটা ব্লক পরেই তার বাড়ি ছিল .

সে যখন বাইকের রাস্তা ধরে হাঁটছিল তখন ডাইনা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করল তাকে সব অনিষ্ট এবং বিপদ থেকে রক্ষা করতে .

যখন সে অন্ধকার এবং ফাঁকা গলিটার কাছে পৌঁছালো , যেটা তার বাড়িতে যাবার শর্টকাট , সে সেই রাস্তা দিয়ে যাবে বলে ঠিক করল .
তবে , গলিতে অর্ধেক পথ যাবার পরে সে একটা লোককে দেখল শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে , মনে হলো যেন সে ডাইনার জন্যেই অপেক্ষা করছে .

তার একটু অসুস্থি হলো এবং সে ভগবানের কাছে তার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করতে লাগল .

সঙ্গে সঙ্গে সে একটা শান্তি অনুভব করল এবং নিরাপত্তা যেন তার চারপাশ ঘিরে আছে , মনে হলো কেউ যেন তার সাথে হাঁটছে .

গলির শেষ প্রান্তে সে যখন পৌঁছালো , সে লোকটার সামনে দিয়ে চলে গেল এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরে  গেল .
পরের দিন , সে খবরের কাগজে পড়ল যে গলি দিয়ে সে গতকাল হেঁটে এসেছে সেখানে তার যাওয়ার কুঁড়ি মিনিট বাদেই একটা অল্পবয়স্ক মেয়ের শ্লীলতাহানি হয়েছে .
এই দুর্ঘটনার সম্বন্ধে পড়ে এবং এই ভেবে যে এই ঘটনা তার সাথেও হতে পারত , সে কাঁদতে শুরু করল  .

তার নিরাপত্তার জন্য ভগবানকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং এই অল্পবয়স্ক মেয়েটার সাহায্য করার কথা ভেবে সে পুলিশ স্টেশনে যাবে বলে মনস্থির করল .
তার মনে হলো সে হয়তো লোকটাকে চিনতে পারবে তাই সে তাদের তার গল্পটাকে বলল .

পুলিশ তাকে জিজ্ঞেস করল যে লাইনে দাঁড়ানো অনেকের মধ্যে সে লোকটাকে শনাক্ত করতে রাজি কিনা .
সে রাজি হলো এবং আগের দিন রাতে গলিতে দাঁড়িয়ে থাকা ওই লোকটাকে সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করে দিল .
লোকটাকে যখন বলা হলো যে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে , তখন সে ভেগে পড়ল এবং সব কিছু স্বীকার করল  .

অফিসার ডাইনাকে তার সাহসীকতার জন্য ধন্যবাদ জানাল এবং তারা জিজ্ঞেস করলেন যে তার জন্য কিছু করতে পারেন কিনা .

সে তাদেরকে বললো যে লোকটাকে একটা প্রশ্ন করতে .
তার জানতে কৌতূহল হলো যে কি কারণে লোকটা তাকে আক্রমণ করেনি .
যখন পুলিশ লোকটাকে  জিজ্ঞেস করল , সে উত্তর দিল , ” কারণ সে এক ছিল না . তার সাথে দুপাশে দুটো লম্বা লোক হেঁটে যাচ্ছিল .”

শিক্ষা :
বিশ্বাস পর্বতকেও সরাতে পারে . যদি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে ভগবান সবসময় আমাদের সাথে আছেন , তাহলে তিনি অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন . তিনি কোনসময় আমাদের একা  ছেড়ে দেবেন না . তিনি সব সময় আমাদের মধ্যেই আছেন এবং আমাদের মনের শক্তি দেন . জীবনে যখনি সমস্যার মুখোমুখি হব তখনি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা উচিত আমাদেরকে এই মনের শক্তি দেবার জন্য . এই দৃঢ় আস্থা এবং বিশ্বাস আমাদের অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে .

ভগবানের নম্র ভক্ত

 

 

Image result for reading books

 

মূল্যবোধ  : সঠিক আচরণ
সহ মূল্যবোধ  : নম্রতা

গুরুভায়ুরাপ্পান — শ্রী কৃষ্ণের   ভক্ত ছিলেন  মেলপাথুর নারায়ণ ভাট্টাথিরী .  তিনি 1034 পদ্য –নারায়াণীয়াম , ভাগবত পুরাণের সংক্ষিপ্তসার রচনা করেছিলেন 1586  AD . অচ্যুত পিশারদি , যিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর শিষ্য ছিলেন মেলপাথুর  ভাট্টাথিরী . গুরুর শিষ্য হিসেবে মেলপাথুর  ভাট্টাথিরী  রোগটাকে নিজের শরীরে গ্রহণ করে নেয় গুরুদক্ষিণা রূপে . রোগটা দুরারোগ্য ছিল এবং তাকে এজুঠাচান নির্দেশ দেন গুরুভায়ুরাপ্পানের শিষ্য হয়ে যেতে . সংস্কৃতের পণ্ডিত হওয়ার কারণে , মেলপাথুর  ভাট্টাথিরী  প্রতিদিন ভগবানের জন্য একটা পদ্য রচনা করতেন এবং শেষ পদ্যটা রচনার পরে তার রোগ ও সেরে যায় .

ভগবান গুরুভায়ুরাপ্পানের  নম্র শিষ্য ছিলেন  পুণ্থানাম নাম্বোদিরি . ভগবানের প্রশংসায় তিনি একটা মালায়ালম গান ” জ্ঞানাপ্পানা ” লিখেছিলেন . তিনি   ভাট্টাথিরীর মতো বিদ্ধান্ ছিলেন না কিন্তু তাঁর গানগুলো সরলতা এবং ভক্তিমূলক  উৎসাহের  জন্য পরিচিত ছিল .  তিনি ভাট্টাথিরীকে অনুরোধ করেছিলেন এটা পুনঃপরীক্ষা করতে কিন্তু  ভাট্টাথিরীর মধ্যে নম্রতার অভাব ছিল এবং  পুণ্থানামের  সংস্কৃতের জ্ঞানকে সে নিচু ভাবে দেখত .  পুণ্থানাম  বাড়ি চলে গেল এবং ভগবানের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ল .

সেই রাতে   ভাট্টাথিরীর   যখন নারায়ানীয়াম পাঠের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন একজন বালক তাঁর বাড়িতে এলো . বালকটাকে পাশে বসিয়ে সে পাঠ করতে শুরু করলেন . প্রথম স্তবকেই বালকটা একটা ভুল ধরিয়ে দিলো . কবি ভুল স্বীকার করলেন এবং পরের স্তবকটা পড়তে শুরু করলেন এবং সেখানে বালকটা দুটো ভুল ধরিয়ে দিলো . তৃতীয় স্তবকে , সে তিনটে ভুল ধরালো এবং এটা চলতে থাকলো . দশম স্তবকের পরে , ভাট্টাথিরীর  বুঝলেন যে বালকটা আসলে ভগবান নিজেই , এবং বুঝলেন যে তাঁর বিভক্তি (সংস্কৃত ব্যাকরণ ) এবং শিক্ষার উচ্চতর জ্ঞানের তুলনায়  পুণ্থানামের   ভক্তি ভগবানের কাছে অনেক মধুর . তিনি তাড়াতাড়ি  পুণ্থানামের  কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলেন .  তিনি  যখন  ” জ্ঞানাপ্পানা”  পড়লেন , তখন দেখলেন যে সেটা একেবারে  নিখুঁত  .

শিক্ষা :

ভালবাসা এবং নম্রতা  বিহীন জ্ঞান সঞ্চয়ের থেকে বিশ্বাস এবং ভক্তি ভগবানের কাছে  অধিক   গুরুত্বপূর্ণ .

চরিত্র গঠনের নিদর্শক ছাপ হলো নম্রতা .

 

অহংকার কাকে বলে

Image result for buddhism

 

মূল্যবোধ : অহিংসা

সহমূল্যবোধ : অন্তরের শান্তি

ট্যাং সাম্রাজ্যে শাসনকার্য এবং যুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ পারদর্শী এক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন.দেশের মানুষের কাছে তিনি একজন জননায়ক হিসেবে পরিগণিত হতেন.প্রভূত নাম যশ এবং সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ.মাঝে মধ্যেই তিনি তার এক প্রিয় ধর্মগুরুর কাছে যেতেন.একজন শ্রদ্ধাবান ছাত্রের মতো মন্ত্রী মহাশয় ওই শ্রদ্ধেয় গুরুর কাছে আধ্যাত্মিক  জ্ঞান আহরণ করতেন.গুরু শিষ্যের সম্পর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কোনো প্রভাবই ছিল না.

একদিন মন্ত্রী মহাশয় তার  গুরুকে প্রশ্ন করলেন-“বৌদ্ধ ধর্মমত অনুসারে আত্মাভিমান কাকে বলে?”প্রশ্ন শুনে গুরু অত্যন্ত  ক্ষুদ্ধ হলেন. মন্ত্রীকে অপমান   করবার জন্য বেশ একটা তাচ্ছিল্যের সুরে উত্তর দিলেন-“এ কি রকম নির্বোধের মতো প্রশ্ন?”গুরুর এই ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রী তো আশ্চর্য হয়ে গেলেন.তার আচরণে ক্রোধ এবং বিষয় প্রকাশ পেল.হতবুদ্ধি এবং নির্বাক মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে গুরু বললেন-“মহামান্য মন্ত্রীবর,একেই বলে আত্মাভিমান অথবা অহংকার.”

শিক্ষা :

অভিজ্ঞতালাভের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করা শিক্ষাঅর্জনের প্রকৃষ্ট উপায়.শুধুমাত্র ব্যাখ্যা করে দিলেই কোনো কিছু শেখানো যায় না.বৌদ্ধ ভিক্ষু বা ধর্মগুরুরা ধর্মশিক্ষা দেওয়ার জন্য এই পন্থাই অবলম্বন করতেন.

http://saibalsankaarbangla.wordpress.com

রাম নাম স্তব করা

Image result for ram naam

মূল্যবোধ : সত্য
সহমূল্যবোধ : জ্ঞান

একজন গুরু বিষ্ণু সহস্রনাম শ্লোকটা তাঁর তরুণ শিষ্যদের একটা দলকে শেখাচ্ছিলেন . গুরু শ্লোকটাকে স্তব করলেন :

শ্রী রামা রামা রামেথী রামে রামে মনো রামে |
সহস্র নামা তথ্যুলাম রামা নামা ভারা নানে ||

তারপর উনি শিষ্যদেরকে  বললেন , ” তুমি যদি রাম নাম তিন বার স্তব করো , তাহলে সেটা সমস্ত বিষ্ণু সহস্রনাম অথবা প্রভুর নাম হাজার বার স্তব করবার সমান .”

একজন তরুণ গুরুর সাথে একমত হতে পারল না . সে গুরুকে জিজ্ঞেস করলো , ” হে গুরু ! ৩ বার =   ১০০০ বার কি করে হয় ? এর পেছনে কি যুক্তি ,সেটা  আমি ঠিক বুঝলাম না . ৩ বার স্তব  =   ১০০০ বার কি করে ? ”

জ্ঞানী এবং দক্ষ গুরু , যিনি শ্রী রামের মহান ভক্ত ,সহজে ব্যাখ্যা করলেন : ” ভগবান শিব বলেছেন যে শ্রী রামের নাম সব নামের থেকে সব চেয়ে মধুর এবং এই নাম স্তব করা সমস্ত বিষ্ণু সহস্রনাম অথবা বিষ্ণুর হাজার নাম কে স্তব করার সমতুল্য .”

এখানে একটা মজাদার সংখ্যাসূচক গণনার দ্বারা প্রমাণ করা যায় যে রাম নাম ৩ বারের স্তব = ১০০০ বার স্তব করা অথবা সমস্ত বিষ্ণু সহস্রনাম স্তব করা .

রাম নামটার  বিশ্লেষণ করা যাক  . এটা তে দুটো সংস্কৃত অক্ষর আছে রা এবং মা .

রা ( সংস্কৃতে দ্বিতীয় ব্যঞ্জনবর্ণ : য , র , ল , ভ , স , এবং শ )
মা ( পঞ্চম ব্যঞ্জনবর্ণ : প , ফ , ব , ভ , ম ).

রা এবং মার মূল্য পরিবর্তন করা হলো ২  এবং ৫  -এ  যাতে রামা তৈরী হয় : ২ x  ৫ = ১০ . তাই রাম রাম রাম তিন বার বলা সমান হলো ২ x  ৫ x ২ x  ৫ x ২ x  ৫ = ১০ x ১০ x ১০ = ১০০০ .  তিন বার রাম নাম স্তব করা হাজার বার স্তব করার সমান .

তরুণ ছেলেটা এই উত্তরে খুশি হলো এবং সম্পূর্ণ একাগ্রতা এবং ভক্তির সাথে বিষ্ণু সহস্রনাম শিখতে শুরু করল .

আমাদের এই  কৌতূহলী ছেলেটার ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন এবং অনেক বন্ধুর মধ্যে এই তথ্যের বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন এবং কম করে ১০০০   বার সকালে এবং সন্ধ্যে রাম নাম স্তব করা প্রয়োজন .

শিক্ষা : নির্দিষ্ট ধর্মানুষ্ঠান , প্রার্থনা পালন করার অর্থ অথবা উদ্দেশ্য যদি  অন্যদের কে বুঝিয়ে দেওয়া হয় , বিশেষত বাচ্চাদেরকে , তাহলে তারা সেগুলোর মর্ম  উপলব্ধি করতে পারবে এবং গুরুত্ব বুঝতে পারবে এবং তার চর্চা করবে ; তা নাহলে তাদের জোর করে জিনিসটাকে  শুধু করানো হয় . জ্ঞান এবং অভিজ্ঞাতার দ্বারা আত্মজ্ঞান অর্জন করা সম্ভব .

 

http://saibalsankaarbangla.wordpress.com

 

 

কচ্ছপের থেকে শেখা

 

terrapin

 

মূল্যবোধ: প্রেম, শান্তি

সহমূল্যবোধ: ধৈর্য

 

 

একটি ছোট ছেলে একদিন পথের ধারে একটা কচ্ছপ দেখতে পেল. সে কচ্ছপটাকে খুব ভাল করে নিরীক্ষণ করতে গেল. অমনি কচ্ছপটা স্বভাববশতঃ তার খোলসের মধ্যে ঢুকে গেল.ছেলেটির মনটা খারাপ হয়ে গেল.সে একটা লাঠি এনে কচ্ছপটাকে খুঁচিয়ে খোলসের বাইরে আনতে চাইল.

এক ভদ্রলোক দদ্দুরে দাঁড়িয়ে সমস্ত ব্যাপারটা দেখছিলেন.তিনি ছেলেটিকে বললেন,”না না এভাবে হবে না.তুমি কচ্ছপটাকে লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলতে পারো,কিন্তূ কোনোমতেই ওকে খোলসের বাইরে আনতে পারবে না”.

ভদ্রলোক কচ্ছপটাকে বাড়িতে নিয়ে এলেন.ফায়ারপ্লেসের কাছে রাখলেন.কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘরের উষ্ণতা পেয়ে কচ্ছপটা ধীরে ধীরে তার মাথাটা বের করল, তারপর পা বার করে হাঁটতে শুরু করল.

কচ্ছপই হোক বা মানুষ ,কারোকে  দিয়ে জোর করে কিছু করানো যায় না.স্নেহের উষ্ণতা দিয়ে আপন করে নিলে যে কেউ যে কোনো কাজ খুশিমনে করে দেয়.

 

শিক্ষা: কারোর উপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া যায় না .কিছু শেখাতে হলে বা নিজের সিদ্ধান্ত কারো উপর আরোপ করতে হলে ধৈর্য্য এবং প্রেমের সাহায্যে প্রথমে তাকে আপন করে নিতে হয়.

http://saibalsankaarbangla.wordpress.com

ঈশ্বর আছেন

 

tea-shop

মূল্যবোধ: সত্য

সহমূল্যবোধ :বিশ্বাস

 

পনেরোজন সৈন্যের একটা দল একজন মেজরের নেতৃত্বে চলেছে হিমালয়ের এক দুর্গম অঞ্চলে.আগামী তিনমাস তারা সেখানে মোতায়েন থাকবে.যে সৈন্যবাহিনী ওই দুর্গম  স্থানে বর্তমানে নিযুক্ত আছে,তারা অধীর আগ্রহে এদের জন্য প্রতীক্ষা করছে.কাজের মেয়াদ শেষে তারা কেউ বা বদলি হবে অন্য কোনো জায়গায় আবার কেউ বা ফিরবে নিজের বাড়ি,মিলিত হবে আত্মীয় পরিজনের সাথে.এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে সহকর্মীদের অব্যাহতি দিতে  পারার আনন্দে মহা উৎসাহে নতুন দলটি পথ চলছে.

এদের যাত্রা পথ মোটেও সুগম নয়.প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে মাঝে মাঝে তুষারপাত সৈন্যদের খুবই অস্বস্তিতে ফেলছে.গন্তব্যে পৌঁছতে তখন একটা গোটা দিন বাকি.এইরকম পরিবেশে একটা অদ্ভুত ইচ্ছে মেজরের মনে উঁকি দিতে লাগলো.তিনি ভাবলেন -“এক কাপ ধূমায়িত চা যদি পাওয়া যেত!”আরো ঘন্টাখানেক পথ চলার পর তাদের নজরে এলো একটা জরাজীর্ণ ঝুপড়ি.ঠিক যেন একটা চায়ের দোকান.বাইরে থেকে তালাবন্ধ.রাত্রি তখন প্রায় দুটো.আশে পাশের বাড়িতে টোকা দিয়ে দোকানের মালিককে খোঁজাটা ওই পরিস্থিতিতে খুব একটা সমীচীন ছিল না.মেজর সাহেব তাই বললেন,”না:এখানে চা পাওয়ার কোনোই আশা নেই.সবাই পথশ্রান্ত.আমরা বরং এখানে একটু বিশ্রাম করি.”

একজন   সৈনিক  বলে  উঠলো,”স্যার এটা নিশ্চয়ই চায়ের দোকান হবে.একবার তালাটা ভেঙে দেখি?”মেজরসাহেব চিন্তা করলেন-“কাজটা কি ঠিক হবে?”কিন্তূ এক কাপ চায়ের লোভ তিনিও সামলাতে পারলেন না.দরজার তালা ভাঙার হুকুম দিলেন.ভেতরে গিয়ে দেখা গেলো সেটা সত্যিই একটা চায়ের দোকান আর সেখানে চা বানাবার সব সরঞ্জাম মজুত.চা বানানো হলো.বিস্কুট আর গরম গরম চা খেয়ে সবাই যেন প্রাণ ফিরে পেলো.সেই কনকনে শীতের রাতে নতুন উদ্দমে তারা যাত্রা করার জন্য প্রস্তুত হলো.মেজর ভাবলেন,তারা কোনো অনুমতি ছাড়া তালা ভাঙলেন,চা খেলেন,কিন্তূ তার জন্য কিছু পয়সা তো দিলেন না! তারা চোর ডাকাত নন.বরং তারা একদল শৃঙ্খলাপরায়ণ সৈনিক.তিনি চিনির কৌটোর নিচে হাজারটা টাকা রেখে দিলেন যাতে  দোকানের মালিক সকালে এসে সেটা দেখতে পায়.এবার নিশ্চিন্ত মনে তিনি সৈন্যদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন.

দিন,সপ্তাহ,মাস কেটে গেলো.এবার এই সৈন্যদের ফেরার পালা.অন্য আবার একদল বীর সাহসী সৈনিক এসে পৌঁছে গেলো.ওই বিপদসঙ্কুল জঙ্গি অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে আগের দলের সবাই অক্ষত দেহে ফিরে চললো.

ফেরার পথে আবার সেই চায়ের দোকানে এসে দাঁড়ালো তারা.এবার দোকান খোলা.দোকানের মালিক পনেরোজন সৈনিককে দেখে সবিশেষ আনন্দিত হল.ওই দুর্গম অঞ্চলে এতজন খরিদ্দার পাওয়া ভাগ্যের কথা.সৈন্যরা দোকানদারের সঙ্গে গল্প করতে লাগলো.দোকানদের তার নানান অভিজ্ঞতার কথা বলতে লাগল.তার সব কথার মধ্যেই তার ঈশ্বরের প্রতি অবিচল বিশ্বাস প্রতিফলিত হচ্ছিল.ওই অপরিসীম দুর্দশার মধ্যে মানুষটির ঈশ্বরের প্রতি অগাধ আস্থা একজন সৈনিককে আপ্লুত করলো.সে বললো,”আচ্ছা,ঈশ্বর যদি সত্যিই থাকেন,তাহলে তোমার মতন একজন ঈশ্বর বিশ্বাসী মানুষ এতো কষ্ট পায় কেন?” বৃদ্ধ দোকানদের বললো-“না, না এই কথা কখনো বলো না.তিনি সত্যিই আছেন .এইতো কয়েক মাস আগে আমি হাতেনাতে তার প্রমাণ পেলাম.খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমি দিন কাটাচ্ছিলাম.আমার একমাত্র ছেলেকে জঙ্গিরা ধরে নিয়ে গেলো কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য.সে বেচারা কিছুই জানে না.তাই কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলো না.কপালে জুটল প্রহার আর নির্যাতন.ফিরে আসার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হল.ওষুধ কিনতে হবে,কিন্তূ আমার কাছে টাকাপয়সা ছিল না.জঙ্গিদের ভয়ে কেউ আমাকে সাহায্য করলো না.আমি কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলাম না.ঈশ্বরের কাছে তাই একমনে প্রার্থনা করতে লাগলাম.হ্যাঁ, তিনি আমার ডাকে সাড়া দিলেন. পরদিন সকালে দোকান খুলতে গিয়ে দেখি ,দোকানের তালা ভাঙ্গা.ভাবলাম সর্বস্ব বোধ হয় চুরি গেছে.ভেতরে গিয়ে দেখি,না সব কিছু ঠিক জায়গাতেই আছে.আর চিনির কৌটোর নিচে হাজারটা টাকা রাখা.তোমাদের বলে বোঝাতে পারবো না,ওই টাকার মূল্য সেদিন আমার কাছে কত ছিল .আমি জানি তোমরা যেখান থেকে আসছো,সেখানে প্রায় রোজই প্রাণহানি হচ্ছে.আজ তোমরা যে সুস্থ্য দেহে বাড়ি ফিরতে পারছো,তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ  দাও.তিনি সব সময় সবার ওপর নজর রাখেন.সেদিন তিনি নিজে এসে,দোকানের তালা ভেঙ্গে আমাকে ওই টাকা দিয়ে গিয়েছিলেন.কি ভয়ানক টাকার প্রয়োজন ছিল আমার সেদিন.বৃদ্ধের চোখে মুখে ফুটে উঠছিলো ঈশ্বরের প্রতি তার অটল অপ্রতিহত বিশ্বাস.আর মেজরের দৃষ্টিতে দ্ব্যর্থক অথচ স্পষ্ট ইঙ্গিত তার সৈনিকদের প্রতি,-“কেউ কিছু বলো না.”

মেজর উঠে দাঁড়ালেন.চায়ের দাম মেটালেন.জড়িয়ে ধরলেন বৃদ্ধ চাওয়ালাকে.বললেন,”হ্যাঁ বাবা,ঈশ্বর নিশ্চয়ই আছেন.আর….খুব ভালো চা খেলাম.”পনেরো জোড়া চোখ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলো তাদের সেনানায়কের চোখে জল,যা তারা আগে কখনো দেখেনি.আমরা যে কেউ সময়বিশেষে অন্য কারো কাছে ঈশ্বর হয়ে উঠতে পারি–এটাই প্রকৃত সত্য.

 

শিক্ষা:

বিস্বাসে মিলায় বস্তু.বিশ্বাস থাকা একান্ত আবশ্যিক.বিশ্বাস পর্বতকেও টলিয়ে দিতে পারে.আস্তিক মানুষ  ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে কখনো সন্দিহান হয় না.জীবনের নানা প্রয়োজনে তিনি  তার ভক্তদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন.ভক্তও তার অদৃশ্য হাতের স্পর্শ অনুভব করে.

 

http://saibalsankaarbangla.wordpress.com

নিখুঁত না হলেও মানিয়ে নেওয়া

Image result for burnt toast on plate

 

মূল্যবোধ : শান্তি
সহমূল্যবোধ : ধৈর্য , সহ্য , বোঝাপড়া

আমি তখন খুব ছোট ছিলাম – দেখতাম মা আমাদের জন্য জলখাবার ও রাত্রের খাবার খুব আনন্দ সহকারে বানাতেন . অনেক দিনের কথা — মনে পড়ে , একদিন রাত্রে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা  খাটুনির পর ফায়ার আসলে মা বাবাকে খেতে দিলেন –ডিম , সসেজ  এবং সেঁকতে গিয়ে পুড়ে যাওয়া পাউরুটি . আমি চুপচাপ দেখতে লাগলাম . বাবা এলেন , মায়ের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন আর পোড়া রুটিটা তুলে নিয়ে আমাকে আমার স্কুলের সারাদিনের কথা জানতে চাইলেন .

সেদিন রাত্রে বাবাকে কি উত্তর দিয়েছিলাম , তা আজ আর মনে পড়ে না . খালি মনে পড়ে , বাবা সেই পোড়া পাউরুটিতে মাখন আর জেলি মাখিয়ে সেটি পরমানন্দে খেয়ে নিলেন . খাওয়ার পর টেবিল থেকে উঠে যাওয়ার সময় শুনেছিলাম পাউরুটিতা পুড়ে যাওয়ার জন্য মা , বাবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছেন . এর উত্তরে বাবা যা বললেন তা আমি কখনো ভুলতে পারবো না ! বাবা বললেন  , ” আমি তো পোড়া রুটি খেতে খুব ভালোবাসি ” .

রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে বাবাকে আদর করতে গিয়ে আমি প্রশ্ন করেছিলাম , ” বাবা , সত্যি কি তুমি পোড়া পাউরুটি খেতে ভালোবাসো ? ” বাবা পরম স্নেহে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন , ” তোমার মা আজ সারাদিন অনেক পরিশ্রম করেছেন , তিনি সত্যিই খুব ক্লান্ত . তাছাড়া একটা সামান্য পোড়া পাউরুটি কি মানুষকে কখনো আঘাত করতে পারে ?”

শিক্ষা :

জীবন এবং সম্পর্ক , এই দুই অমূল্য সম্পদকে তুচ্ছ বিষয়ের জন্য নষ্ট হতে দেওয়া যায় না . ধৈর্য , সহ্য , পারস্পরিক বোঝাপড়া — এই সম্পর্কগুলিকে  বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে . মা , বাবা অথবা অন্যান্য গুরুজনেরা এগুলো অনুশীলন করলে শিশুদের মধ্যে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে .

 

http://saibalsankaarbangla.wordpress.com